Categories
Reviews

ঠাকুরবাড়ির আঙিনায়, জসীমউদ্দীন

2016

একেবারেই একটানা পড়ে শেষ করলাম বইটা। ছোটবেলা থেকেই কবি জসীমউদদীনের মুগ্ধ পাঠক ছিলাম, এখন তাঁর গদ্যরও ভক্ত হয়ে গেলাম। যদিও এটিকে গদ্য না বলে স্মৃতিকথা বলাই যুক্তিযুক্ত। কবিগুরু এবং ঠাকুরবাড়ির আরও বেশ কিছু মানুষ, বিশেষ করে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সান্নিধ্যে আসা এবং তাঁদের সাথে কাটানো সময়ের স্মৃতিচারণ নিয়েই লেখা বইটি। 

বইটি পড়তে পড়তে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবন, কাজ, ও ব্যক্তিত্বকে এক নতুন আলোকে দেখতে পেলাম যেন; যেই কবি লেখা মনমতো হওয়ার আগে পর্যন্ত বারে বারে লেখার সংশোধন ও পরিবর্তন করেন, নাটক মঞ্চায়নের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত সংলাপ আর কাহিনীতে পরিবর্তন করতে থাকেন সবচেয়ে ভালোভাবে কাজটি করার জন্য, ভোরে উঠে সারাদিন লেখায় মশগুল থাকেন, আবার তাঁর কাছে এসে কোনো দর্শনার্থী ফিরে গেলে মনঃক্ষুণ্ণ হন, সকলের সাথে দেখা এবং কথা বলেন, সাধ্যমত সকলের জন্য করেন, আবার কেউ উপকার পেয়ে কৃতজ্ঞতা জানাতে এলে অবাক হয়ে যান। সাহিত্যের এতো দিকে তাঁর বিস্তর পদচারনা, অথচ বিশ্বভারতী আর শান্তিনিকেতনের মত বড় দুটো প্রতিষ্ঠান চালিয়ে গিয়েছেন সফলভাবে। বই থেকে জানলাম এতোরকম কাজ করতে গিয়ে ঠাকুরবাড়ির বাকি সকলের এবং আরও কতজনের কতো নীরব ত্যাগ এবং অবদান ইন্ধন জুগিয়েছে। জানলাম অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এবং তাঁর আরও দুই ভাইয়ের সাধনার কথা; ছবি আঁকা নিয়ে তাঁদের দিন রাত পার করে দেয়ার গল্প। 

পড়ার সময় গুণী মানুষজনের কথা, কাজ, এবং কাজের প্রতি অবিচল নিষ্ঠা দেখে শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়েছে, মানুষের সাথে মানুষের সৌহার্দ্য আর বাচ্চাদের মন জয়ের জন্য লেখকের চেষ্টার কথা শুনে অদ্ভুত প্রশান্তি হয়েছে, বন্ধুরা মিলে প্রতিবেশি একজনের সাথে প্র্যাক্টিক্যাল জোকের কাহিনী পড়তে গিয়ে নিজের অজান্তেই জোরে হেসে ফেলেছি, আবার জীবনের শেষ দিকে এসে এই বাড়ির মানুষজনের দুর্দশার কথা পড়তে গিয়ে চোখ ভিজে এসেছে। 

পল্লীকবি জসীম উদদীনের লেখায় গ্রামবাংলার যে মায়াভরা রূপটা দেখতে পাই, তাঁর লেখায় যে মাটির গন্ধ পাই, সেইরকম মায়া এই বইটা জুড়েও ছিলো। একটা শহর আর শহুরে মানুষজন নিয়েও যে এমন কোমল মমতা নিয়ে লেখা যায়, এমনটা আগে দেখিনি। মিষ্টি সব উপমা, সহজ সরল মুগ্ধতার ভাষা, আর লেখাজুড়ে আপনজনকে নিয়ে লেখার মায়া যে মনের ভেতর থেকে আসা ভালোবাসা আর শ্রদ্ধা মিলেই গড়ে উঠেছে – তাতে সন্দেহ হবার অবকাশ নেই। লেখকের এ ধরনের আরও যে কয়টি বই রয়েছে, যত দ্রুত সম্ভব পড়ে ফেলার আশা রাখি 😀

Categories
Reviews

যদ্যপি আমার গুরু, আহমদ ছফা

২০১৬

অনেকদিন থেকে ‘পড়তে চাই’ লিস্টে রেখে দেয়া একটা বই। শুরুটা বেশ কয়েকদিন আগে করেছি। তবে প্রথমে একটু একটু হোঁচট খেয়েছি বলতে হবে। কেমন যেন একটু খাপছাড়া আর এক কথা কয়েকবার এসেছে মনে হয়েছিলো। তবে কয়েক পাতা পড়ার পর থেকে আর থামতে হয়নি, পারিনি বলা ভালো।

বইটা পড়তে গিয়ে যতটা না গুনমুগ্ধ হয়েছি তারচেয়ে অনেক বেশি আফসোস হয়েছে। আহা, এমন একজন মানুষের কাছে দাঁড়িয়ে তাঁর এতো এতো অভিজ্ঞতা আর দর্শনের কথা যদি কিছুক্ষণের জন্যও শুনতে পেতাম, লেখক যদি আরেকটু গুছিয়ে আরও বিশদভাবে অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাকের সাথে তার কথোপকথন লিখে রাখতেন যখন শুনতেন, ইনি ছাড়া আরও কারো দৃষ্টিভঙ্গি থেকে যদি জানতে পারতাম এই অসাধারণ জ্ঞানী এবং গুণী মানুষটার কথা! – এবং আরও অনেক আফসোস। বইতে একটা জায়গায় আছে, একদিন বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার সমর সেন স্যারের বাসায় আসবেন এই উপলক্ষে তাঁর বাসায় নানান আয়োজন হয়। সেসময় লেখককে তিনি ভারতীয় উপমহাদেশ এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রান্নাবান্নার ধরণ এবং তার কারণ সম্পর্কে অনেক কিছু বলেন; কিন্তু লেখকের নিজের রান্নাবান্না সম্পর্কে তেমন অভিজ্ঞতা বা আগ্রহ কোনোটাই না থাকায় তিনি তার প্রায় সবটাই ভুলে গিয়েছেন। পুরো বইটাতে এই অংশে আরও কি কি লেখা থাকতে পারতো ভেবে যে আফসোস হয়েছে, এরকম আর হয়নি বলা যায়। এরকম অমূল্য কথাগুলো এভাবে হারিয়ে গেলো!

লেখক নিজেই বলেছেন যে, অধ্যাপকের কথা বা তাঁর চরিত্রকে একেবারে সম্পূর্ণরূপে তুলে ধরা হয়তো সম্ভব হয়নি স্মৃতি থেকে লেখার কারণে। তারপরেও, বিভিন্ন ঘটনা আর বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর মন্তব্য যা পড়েছি এখানে, এতেই তাঁর জ্ঞানের পরিধি, প্রজ্ঞা, আর চারিত্রিক গুণের কথা ভেবে শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়ে আসে। অথচ তেমন কিছুই জানতাম না এঁর ব্যাপারে বইটা পড়ার আগে! বইটা পড়তে গিয়ে তাঁদের কথাবার্তায় উঠে আসা নামগুলো থেকে অনেকগুলো বই আর লেখকের নাম টুকে রেখেছি, সম্ভব হলে অবশ্যই পড়ে দেখতে চাই এমন সব বই।

কোথায় যেন পড়েছিলাম যে, একজন জ্ঞানী ব্যক্তির কাছে এক ঘণ্টা বসে থেকে তাঁর কথা শোনা একশ’ বই পড়ার চেয়ে বেশি জানায় ও ভাবায়। বস্তুতই এমন মানুষের দেখা পাওয়া ভার। কোনো এক বিষয়ে অনেক জানেন এমন মানুষ থাকলেও বিবিধ বিষয়ে পারদর্শী মানুষ যেমন পাওয়া কঠিন, তেমনি অনেক জানেন কিন্তু শ্রদ্ধা করার মত চরিত্রর দেখা পাওয়া আরও কঠিন। অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাকের কথা থেকে নিয়ে বলা যায়, ” বড় লেখকদের মধ্যে বড় মানুষের ছায়া থাকে। বড় মানুষেরা আসলেই বড় মাপের মানুষ।” সেদিন থেকে তাঁর মানুষের গুণের যথার্থ কদর, যার প্রয়োজন তাকে যথার্থ সাহায্য করা, সর্বোপরি উপকার পেয়ে পরে ভুলে যাওয়া মানুষের প্রতি কোনো তিক্ত মনোভাব পুষে না রাখার যে দৃষ্টান্ত দেখেছি তাতে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা আরও বেড়ে যায়।

বইয়ের শুরুতে একটু আটকে গেলেও পরে যে আর থামতে পারিনি, তা যেমন লেখনীর গুণ, তেমনি বিষয়ের। এতো ছোট পরিসরের একটা বইতে কত বিষয় আর কত মানুষ সম্পর্কে যে কতো কিছু জানতে পারলাম তা ভেবে কূল পাচ্ছি না আপাতত। লেখকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে শেষ করছি যার জন্য কিছুটা হলেও এমন একজন ব্যক্তিত্বের কথা জানতে পারলাম।

Categories
Reviews

ভোল্‌গা থেকে গঙ্গা, রাহুল সংকৃত্যায়ন

August, 2016

অনেকদিন সময় নিয়ে পড়লাম বইটা। যেকোনো বয়সের পাঠকদের জন্য অবশ্যপাঠ্য মনে হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ-ভারত এলাকার মানুষজনের জন্য। ৬০০০ খ্রিষ্টপূর্ব থেকে বর্তমান সময়ে এই উপমহাদেশের আশেপাশের এলাকায় সভ্যতা আর সমাজ কীভাবে এগিয়েছে সেটাই একটার পর একটা সময়ের মানুষের গল্প দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সাধারণ মানুষ বা সমাজপতিদের ব্যক্তিগত জীবন আর দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যেই ফুটে উঠেছে ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দেয়া ঘটনাপ্রবাহ আর দর্শন। কীভাবে মানুষ শুধুমাত্র ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করতে মানুষের অনুভূতি বা ধর্মবিশ্বাসকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ব্যবহার করেছে তারও একটা পরিষ্কার ছবি চোখে ভাসে। স্কুলে থাকলে সমাজবিজ্ঞান বইতে ইতিহাসের যে অংশগুলো ছিলো তার বদলে ষষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত এই বইয়ের অংশবিশেষ করে পড়লে ইতিহাস আরও অনেক সুন্দরভাবে জানতে আর বুঝতে পারতাম মনে হয়েছে। 

বইটায় দুইটা অংশ আছে। ‘ভোল্গা থেকে গঙ্গা’ আর ‘কনৈলা কি কথা’। প্রথম অংশে সমগ্র ইন্দো-ইউরোপীয় এলাকা নিয়েই কথা এসেছে আর দ্বিতীয় অংশে কনৈলা বা কর্ণহট আর শিশংপা নামক জায়গার আশেপাশের এলাকার ইতিহাস। লেখা খুবই সুখপাঠ্য। তবে প্রথমদিকে পড়তে গিয়ে আটকাতে হয়েছে। এই জন্যেই পড়তে সময় নিয়েছি। তবে সেটা লেখার সীমাবদ্ধতা নাকি অনুবাদের, সেটা নিয়ে প্রশ্ন আসে। অনুবাদ বেশীরভাগ জায়গাতেই সাবলীল ও ঝরঝরে। তবে কিছু কিছু জায়গায় কেমন ‘আক্ষরিক’ অনুবাদ হয়েছে বলে মনে হয়। সেটা পাঠক হিসেবে আমার সীমাবদ্ধতাও হতে পারে। 

তারপরেও সব মিলিয়ে আসাধারণ বই এটি। সময় নিয়ে হলেও সবার পড়ে দেখা উচিৎ। এতো বিশাল পরিসরের এতো রকম ঘটনা সবটা মনে না থাকলেও সবমিলিয়ে এই উপমহাদেশের যে ছবিটা চোখের সামনে ফুটে উঠেছে বইটা পড়ে, আর কোনো বই পড়েই এমন হয়নি 🙂 

Categories
Reviews

The Things You Can See Only When You Slow Down, Haemin Sunim

June, 2017

Heart warming, soothing, simple, yet full of wisdom. Started reading it at a difficult time and this book helped me find myself back again. I wouldn’t say it is filled with extraordinary enlightenment, but that is the best part about it. There are some simple yet powerful truth which we all know deep down inside, but it is so easy to lose our connection with those when we are too wound up in our busy life. This book was a kind a gentle reminder to those truths for me. A small book, but I took my time reading and thinking about the lines. Will definitely read again and again. And also will recommend to anyone who is distressed with anything in their life right now. This book is a gem indeed 🙂 !

Categories
Lifestyle / Tips

My TOEFL Preparation and Tips

Firstly, the only time I took the TOEFL or ‘Test Of English as a Foreign Language’ was on 7th of November, 2015. That is more than 3.5 years ago from now. I had to take it to apply for my MSc in Europe. For various reasons, I had only a couple of weeks to prepare for it. However, I managed to do well with a score of 119 on a scale of 120 (Reading – 30, Listening – 30, Speaking – 30, Writing – 29). I made a short write-up about my preparation right after getting the scores, and I still get questions from people who are preparing for it from Bangladesh (where I am from). So, I decided to write about it here to keep it available for a longer time in case it can still help someone. 

Now, I am no trainer for TOEFL, and my strategies are based on only one attempt. So, I am not saying that this will definitely work for any level of background. But if you are short on time, and have a decent background in English already, this might help you to tackle TOEFL as a test. Also, I do not work with any of the organizations that are involved with test test taking or preparation. This is entirely from my personal experience. Now that the disclaimer is done away with, I will go on with my suggestions. 

Preparation: 

The first step will definitely be to familiarise yourself with the four sections of the test and the types of questions that come in each section. TOEFL is maintained by ETS from USA, and they have very handy short guides in the ETS-TOEFL website. The test pattern is pretty standard and repetitive. It may take maximum a couple hours to go through the question types and how you are expected to answer each section. But it will save you a lot of time to prepare for things out of context and also save you from any element of surprise during the exam.

For TOEFL, you do not really need to memorise a lot of vocabulary if you have a decent vocabulary grown over your high school and undergraduate study in Bangladesh (and I am pretty sure about from most other countries). Mostly, there are only a few questions from this part, and the word meaning is asked in terms of the context of the paragraph. So, it is not too difficult, and definitely not worth it to spend your short time at hand to spend on preparing for this part. 

If you are too insecure about your vocabulary level, there are a large number of apps available. I downloaded the ‘Magoosh’ app for TOEFL vocabulary list, and went through the lists very quickly. They were almost all known words, which is the correct level for TOEFL. 

I took notes while reading or preparing to categorise the question patterns and later on how to answer those questions. It was more like a chart and was very helpful to go through while I was stuck during the mock tests. 

I went through the materials from “Notefull” to get an idea about how to answer different types of questions after going through ETS materials. They were very helpful. Especially for the reading and speaking part. I went through the other two parts anyway as I had no clue about what comes and what not. And that was about all the ‘Tips’ materials that I used.

There is a dedicated mock test taker for TOEFL from ETS called TOEFL Practice Online aka TPO. After going through the aforementioned materials, I practiced a few tests in TPO. It resembles the original test very closely. The writing and speaking sections were completely similar. The reading and listening parts seemed a little easier than the original one. However, I found that TPO reduces marks more than the original test for wrong answers because my scores were better in the final one. That might be changed in the updated versions as I have no idea about the recent updates. 

In TPO, I gave 2 complete tests, 6~7 reading, 2~3 listening, 2 writing and 5 speaking altogether. I was not happy with my reading test scores in the beginning, and I did not like how I was answering my speaking section. So, I focused on those 2 more.

TOEFL is a simple test as it is about our capacity to communicate and not our capacity to deliver academically usable or literature worthy pieces. So, it is OKAY to use simple word and structure as long as it is within the context and is correct in grammar and spelling. I think, they are pretty liberal with the pronunciation as it is normal to have accent for different native language speakers. 

In reading part, the most important is reading comprehension and paying attention to the question as they can be a bit tricky. Pay attention to the negative terms in the question and in the answer options. Also, it is important to answer from the given paragraph or essay and NOT from your knowledge. The test is not about being right or wrong in a topic, it is about understanding the questions the ask and answering them in accordance with the materials they provide. So, read and answer carefully. It will be tricky, but not difficult.

In listening part, the most important part is to take quick notes that you can understand. As nothing will be repeated, and there can be too many things to remember, even a word that reminds you o the context will be helpful. The same goes for the writing part. Clear and fast notes will definitely improve your score in listening, and writing. And again, answer from the materials (audio or script) they provide, and not from knowledge. 

For speaking and writing part, tips from Notefull are enough I think. They also provide good format for speaking and writing part. I would suggest looking at those and coming up with a version that you are most comfortable with while you do the mock tests. 

Last but not the least, during speaking, use deep breaths to calm down and collect your thoughts if necessary instead of saying random fillers like umm, err etc. Also, do not try to speak from memory. Try to speak like you are talking to a person. You do not have to explain everything, and it is better to finish a few seconds earlier than the given time than being midway when the recorder stops. 

Preparation Time:

I had my TOEFL on November 7th and started preparing from about two weeks ago. But I had my job and spent 1~2 hours per day only. So, I’d say if you are going for intensive preparation, 1 week will be enough. But, it is more about practicing than studying; so the more time you spend, the better. Also, it depends on your level where you started.

Overall, I will stress again that TOEFL is not a complicated test. It does not need extreme preparation and knowledge. But, like any other tests, some strategies can make it much less intimidating and can increase the chance of a higher score. I hope this post helps you if you are just starting the preparation and are lost about where to start and what to do. Good luck! You are welcome to leave any questions or comments. 

Categories
Reviews

আগুনপাখি, হাসান আজিজুল হক

মার্চ, ২০১৬

অনেক অনেকদিন পর মোটামুটি এক নিঃশ্বাসে একটা বই পরে ফেললাম। ছোটবেলায় গ্রামে যখন ছিলাম, সন্ধ্যে হলেই কিছুক্ষণ নামেমাত্র পড়াশোনা করে দাদুর কাছে বসে যেতাম আমরা দুই ভাইবোন। বেশিরভাগ সময়েই লোডশেডিং চলতো আর উঠোনে খোলা আকাশের নিচে বসে হাতপাখার বাতাস খেতে খেতে আমরা শুনতাম দাদুর জীবনের গল্প- কিভাবে বরিশালের মশাং নামক এলাকার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়ে মাত্র দশ বছর বয়েসে বিয়ে করে এই সংসারে এলো- কিভাবে অনেক দিন পর্যন্তই এই বড় বাড়িতে মন খারাপ করেই তার সময় কেটে যেত- কিভাবে সে কোনও কাজ না জেনে এলেও সময়ের সাথে সব শিখে সংসারের হাল ধরলেন – কিভাবে সংসারের ভালো মন্দ সময়গুলো গেলো- কখন একেকটা অসময়ের মৃত্যু এসে জীবনটা ওলট পালট করে দিলো- কিভাবে তারপরেও জীবন এগিয়ে গেলো- কিভাবে মুক্তিযুদ্ধের সময়টা তারা পার করলেন- এমন হাজারও জীবনের গল্প শুনতে শুনতে ছোটবেলায় কোথায় যে হারিয়ে যেতাম! একটু বড় হবার পর থেকেই তাই মাথায় ঘুরছে যে তার এই সব গল্প- সবকিছু যেভাবেই হোক লিখে ফেলতে হবে। পৃথিবীতে কত কি হয়ে যায়- তার প্রভাব একেবারেই কারও সাতে-পাঁচে না থাকা নিরীহ মানুষের জীবনে কিভাবে আন্দোলন বয়ে আনে, তা সত্যিই স্তব্ধ করে দেয় সময়ে সময়ে। আগুনপাখি বইটি পড়ে মনে হচ্ছিলো আমার দাদুর গল্পই যেন পড়ছি!

গাঁয়ের এক সাধারণ মেয়ের জবানিতে লেখা তার জীবনের বিভিন্ন সময়ের গল্প। তার বাবার বাড়ি ছেড়ে শ্বশুরবাড়ি চলে আসার গল্প। বিরাট সংসারে ছায়া দিয়ে যাওয়া মানুষদের কথা মেনে নিয়ে যা আছে তাই নিয়ে হাসিমুখে পার করে দেয়া সময়ের গল্প। এর মাঝেই জন্ম- মৃত্যু – হাসি – কান্না মিলে জীবন এগিয়ে যায়। পুরো বইটা জুড়ে ছড়িয়ে ছিল মাটির গন্ধ আর একমাত্র মায়ের মনেই থাকা সম্ভব এমন মায়া। কোনও কিছুই মুখফুটে না বললেও যে মানুষ তার পরিবারের মানুষগুলোর সংসার টিকিয়ে রাখার সংগ্রাম অকপটে বুঝে নিয়ে নিজের সর্বস্ব দিয়ে যাচ্ছে তাকে ভালো না বেসে কি পারা যায়! তাই বইটি পড়তে গিয়ে নিজের অজান্তেই কখনো হেসে কুটিকুটি হয়েছি, কখনো বুক ভেঙ্গে যেতে চেয়েছে হাহাকারে। বিশ্বযুদ্ধ, ভারত ছাড় আন্দোলন, দেশ বিভাগ, মঙ্গা- এসবকিছুকেই একেবারে আটপৌরে জীবনের কাছ থেকে দেখতে পেলাম যেন। আর শেষে এসে এই সর্বংসহা সরল মেয়ের জীবনে একবার অবাধ্য হবার সময়ও তাই তাকে সমর্থন না জানিয়ে পারলাম না। অসাধারণ বই!

Categories
Astrophysics

উল্কা আর উল্কাবৃষ্টি

গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে রাতের আকাশে একটা ছোট আলোর বিন্দু হঠাত করে নিচের দিকে পড়ে যেতে আমরা অনেকেই দেখেছি। মনে হয় যেন আকাশ ভরা মিটমিটে তারাগুলো থেকে একটা বুঝি টুপ করে পড়ে গেল! এব্যাপারে বড়দের জিজ্ঞাসা করে এগুলো যে ‘খসে পড়া তারা’-ই, তাও হয়ত শুনেছি অনেকে। আবার এই ‘খসে পড়া তারার’ মত দেখতে জিনিসগুলি যে আদতে তারাই নয়, বরং এদের নাম ‘উল্কা’ তা-ও কেউ কেউ জানি। কিন্তু ‘উল্কা’ জিনিসটা আসলে কি অথবা উল্কাবৃষ্টি আসলে কেন হয়? আর কেনইবা উল্কাদের খসে পড়া তারার মত দেখায় এই প্রশ্নগুলোর সঠিক উত্তরগুলি আমাদের অনেকের কাছেই কিছুটা ধোয়াটে।

উল্কার সংজ্ঞাটা বেশ সাদাসিধা। কোনো মহাজাগতিক বস্তু(সহজ কথায় যেসব বস্তু মহাকাশে ঘুরে বেড়ায়) পৃথিবীর যথেষ্ট কাছে এসে পড়লে পৃথিবীর মহাকর্ষীয় ক্ষেত্রের প্রভাবে এটি ভূপৃষ্ঠের দিকে তীব্র বেগে এগুতে থাকে আর এসময় এর সাথে বায়ুমণ্ডলের কণাগুলোর সংঘর্ষে জ্বলে ওঠে। তখন যে ক্ষণস্থায়ী সরু আলোর রেখা দেখা যায়, তা-ই উল্কা। বেশিরভাগ সময়ই উল্কার আকার এত ছোট হয় যে এটি আসার পথেই জ্বলে ছাই হয়ে যায়। যদি এটি মোটামুটি বড় আকারের হয় তবে এর যে অবশিষ্টাংশ ভূপৃষ্ঠে এসে পড়ে তা হল উল্কাপিণ্ড।

কথা হল, কোন মহাজাগতিক বস্তু আসে এমনভাবে? পৃথিবীর চারপাশে শুক্র বা মঙ্গলের আগে পর্যন্ত তো তেমন কিছুই নেই, তাহলে শক্তিশালী পর্যবেক্ষণ যন্ত্রে প্রতি ঘণ্টায়ই যে গড়ে ৫টি উল্কাপাত দেখা যায়, তার উৎপত্তি কোথায়? উত্তর হল- অনেক জায়গাতেই! আসল কথা হল, সৌরজগতের সবচেয়ে ছোট পরিচিত সদস্য গ্রহাণুগুলোও পৃথিবীর বেশ দূরে থেকে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে। কিন্তু, এগুলো ছাড়াও অসংখ্য ছোট ছোট বালুকণা বা পাথরের টুকরোর মত পদার্থ ইতস্তত ছড়িয়ে আছে। আর মোটামুটি সিংহভাগ উল্কাই এসব কণার পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে জ্বলে ওঠার দৃশ্য। তাই এদের কেউই পৃথিবী পৃষ্ঠ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না। প্রতি ১০০ বছরে হয়ত মাত্র কয়েকটি ছোট খাটো টুকরো পৃথিবী পর্যন্ত এসে পৌঁছে আর এখানে এসে বিশালাকার খাদ কিংবা ডাইনোসরদের বিলুপ্ত করে দেবার মত ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টিকারী উল্কা আসার সম্ভাবনা মোটামুটি প্রতি ৩লক্ষ বছরে একবার মাত্র। এগুলো হল গ্রহানু বেল্টের কোনো বিক্ষিপ্ত সদস্যর কাজ যেটি ঘুরতে ঘুরতে মঙ্গল ও পরে পৃথিবীর আকর্ষণে পথ বদলাতে গিয়ে শেষমেশ পৃথিবীর মহাকর্ষ বল এড়াতে না পেরে এখানে আছড়ে পড়ে।

সাধারনত, ভোরের দিকে সন্ধ্যার চেয়ে বেশি উল্কা দেখা যায়। কারণ, সেসময় পৃথিবীর গতির দিকেই উল্কাদের অবস্থান হয়। খালি চোখে আমরা যেসব উল্কা দেখি সেগুলো প্রায় ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার উপরে থাকে আর এদের বেগ থাকে প্রায় প্রায় ৩০ কিলোমিটার/সেকেন্ড।

এ তো গেল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়া উল্কার কথা। এখন আসি উল্কাবৃষ্টিতে। প্রতি বছরই কিছু নির্দিষ্ট দিনে আকাশে উল্কার পরিমান বেশ বেড়ে যায় (প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৩০/৪০ টি)- একেই বলে উল্কাবৃষ্টি। আর এই অসংখ্য উল্কা আকাশের একেকটি নির্দিষ্ট জায়গা থেকেই আসে। এই জায়গাগুলিকে বলে বিকিরণ বিন্দু বা ‘radiant’। এ থেকে মনে আসতেই পারে যে এগুলো নিশ্চয়ই একই মাতৃবস্তু থেকে আসছে; আসলেও তাই। সূর্যের কাছে যে সকল ধূমকেতু আসে সেগুলোর বিশাল আর সুবিস্তৃত বরফকণাপূর্ণ গ্যাসীয় লেজের যেসব অবশিষ্টাংশ এদের কক্ষপথের আশেপাশে ছড়িয়ে থাকে, পৃথিবী তার চলার পথে এদের কাছে চলে আসলে মোটামুটি কাছাকাছি অঞ্চল থেকে এরা উল্কা হয়ে পৃথিবীর দিকে ছুটে আসে। এভাবে একেকটি ধূমকেতুর ফেলে যাওয়া ধূলিকণার দঙ্গল থেকেই বেশিরভাগ উল্কাবৃষ্টি হয় বলে একটি নির্দিষ্ট সময়ে একটি নির্দিষ্ট বিন্দু থেকে একেকটি উল্কাবৃষ্টি হয়। আর এই নির্দিষ্ট বিন্দুগুলো মূলত আকাশের পটভূমিতে একেকটি তারামণ্ডলের মধ্যে থাকে। তাই অবস্থান সনাক্তকরণ সহজ করতে একেকটি উল্কাবৃষ্টি যে তারামণ্ডলের পটভূমিতে হয়- তার নামকরণ সেই তারামণ্ডলের নামানুসারে হয়। এসময় সেই মণ্ডলের নামের শেষে সাধারনত –ids অথবা –nids যোগ করা হয়। অনেক সময় মণ্ডলের নামের শেষের দু-একটা বর্ণ বাদ দিয়েও শেষাংশ যোগ করা হয়। যেমনঃ আগস্টের ১২ তারিখে যে উল্কাবৃষ্টি দেখা যায় তার নাম ‘পারসেইডস’ (perseids)উল্কাবৃষ্টি যেটির নামকরণ হয়েছে পারসিয়াস তারামণ্ডল থেকে আর এটি হয় ‘সুইফট টাটল’ নামক ধূমকেতুর অবশিষ্টাংশ থেকে। অক্টোবর মাসের ২০ তারিখে দেখা যায় ‘ওরায়নিডস’ (orionids) নামক উল্কাবৃষ্টি যেটির নামকরণ আর কারণ যথাক্রমে কালপুরুষ মণ্ডল আর হ্যালির ধূমকেতুর অবশিষ্ট। নিচের ছকে বছরের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি উল্কাবৃষ্টির নাম ও সময় দেওয়া হলঃ

নাম —সর্বোচ্চ উল্কাপাতের দিন (সাধারণত)

কোয়াড্রানটিডস (Quadrantids) —জানুয়ারী ৩

লাইরিডস (Lyrids) —এপ্রিল ২১

ইটা অ্যাকুয়ারিডস (Eta Aquarids) — মে ৫

পারসেইডস (Perseids) —আগস্ট ১২

ওরায়নিডস (Orionids) —অক্টোবর ২০

লিওনিডস (Leonids) —নভেম্বর ১৭

জেমিনিডস (Geminids) —ডিসেম্বর ১৩

এই দিনগুলিতে বা তার একদিন আগে-পরের দিনে ঢাকার মত আলো-দূষণময় শহরগুলি ছাড়া অন্য যেকোনো জায়গাতেই থাকো না কেন, রাতের আকাশে ঘন্টাখানেক তাকালে ৩০/৪০টা না হলেও, অন্ততপক্ষে ৫/১০টা উল্কা চোখে পড়বেই। আর ভাগ্য ভালো হলে একসাথে কয়েকটাও দেখা যায় মাঝে মাঝে। ব্যাখ্যা জানা থাকুক আর নাই থাকুক, তারাভরা আকাশ দেখা যেমন মজার, উল্কা, ধূমকেতু, গ্রহণের মত মহাজাগতিক ঘটনা দেখা আরও বেশিই মজার। তাই এসব সময় উপযুক্ত জায়গায় থাকলে সুযোগটা কাজে লাগিয়ে ফেলাই ভালো। আর সেই সাথে ব্যাপারটা কি আর কেনো হচ্ছে তা জানা থাকলে তো কথাই নেই!     

দ্রষ্টব্যঃ লেখাটা ২০১৫ সালের। এটাও কোনো ম্যাগাজিন বা শিশু সংকলনের জন্য লেখা। পুরনো লেখাগুলি জড়ো করে রাখতেই রেখে দিচ্ছি এখানে।

Categories
Thoughts

The Cage in the Bird

Once upon a time, there was a little bird whose nest was in a small rose bush of an orchard. The nest was very pretty and its folks were oh so charming. They had a wonderful little world and everything they wanted was at reach. The birdie wanted nothing more than being happy like every other one. But, there was this voice that introduced it with the world outside – the deep blue never ending sky, the shining sun and the thousands of colors that were present outside the orchard. 

It taught the bird to look beyond and to step out of the perfect garden. It encouraged the tiny  one to pick whatever color it liked most from the dazzling sight and make that its own. It taught the wobbly winged creature to fly and most dangerously, to dream – to aim for the sun if it wanted to fly high, to aim for the rainbow if it was what it wanted. The tiny heart started to grow bigger inside the little body. With time, the bird grew bigger bit by bit, but its world grew bigger by leaps. It learned flying – it was expected by everyone around. Then it learned flying higher – it was beyond expectation – the bird was encouraged and judged at the same time. It grew confused, afraid ; but the voice was still there, with hope, courage and love. It made the little one stronger. The more it learned to go higher, the more difficult it got. 

To be truthful, at first, it started flying because it did not want the voice to be disappointed. But the more it learned, the more challenging it became, it realized that flying was meant for it. It wanted to reach the sun for itself and everything else. It knew that the world is open to take over – it believed that if there is nothing to believe in, it has its own wings to push forward. 

Suddenly, one day, the voice that has been there forever like the wind and the sun started growing weaker… The little one, now not being the old frail one, wanted to give it the same feel of peace and faith that it has always received from this voice. But it was no good. The voice dimmed first, then it started becoming stronger again! Only this time, it told the dreamy bird to fold its ever spread wings, that the sun was no place to go to, that the orchard was where home was, that to fly high is good but it had its limits too. The bewildered bird, suddenly found itself alone in the entire universe. For it cannot let go of all it has believed in, dreamt and been living for so far, yet it started doing all these to not disappoint the voices that was telling to stop being what it have been… 

In tormenting dilemma, the bird starts flying, then stops midway. Goes around the orchard. Then again starts flying and goes above. It then goes round and round along the perimeter and looks inside and out, trying to choose, but in vein. The once soulful and happily singing bird, now only goes in circles above the orchard- silent and searching, looking – sometimes sitting inside for a while, then suddenly rising higher than the tallest tree. But most of the time,  in between…

Have you ever seen a tiny dot circling above? Always flying but seldom going higher or lower? Then you know the one I have been babbling about 🙂

Note: This is an old write-up from 2014. It is not perfect of course, but I decided to post it here without edit to be as a reminder of the time it reminds me of. Thank you for reading!

Categories
Astrophysics

তারাদের ঝাড়ু

আমার নানুবাড়ির গ্রাম সবচেয়ে কাছের শহর থেকেও মোটামুটি বেশ দূরে হওয়ায় সেখানে কিছুদিন আগেই মাত্র বিদ্যুৎ লাইন পৌঁছে। তাই ছোটবেলা থেকেই কালেভদ্রে সেখানে বেড়াতে গেলে শহরের একেবারেই উল্টো প্রকৃতি আর জীবন-যাপনের প্রতি একধরনের কৌতূহল মেশানো মুগ্ধতা সবসময়ই কাজ করত। আর সবচেয়ে বেশী মুগ্ধ করত রাতের আকাশ। বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় সেখানে সন্ধ্যার পরই ঝুপ করে রাত নেমে আসত। কেরোসিনের বাতি আর হ্যারিকেনের মৃদু হলদে আলোয় সে অন্ধকার আরো গাঢ় হয়ে উঠত। এই পটভূমিতে তারাভরা আকাশটাকে মনে হত বুঝি সত্যিকারের হীরের টুকরো দিয়ে সাজানো। সেখানেই মায়ের কাছে প্রথম আকাশগঙ্গা ছায়াপথ চেনা, মনে মনে তারা জোড়া লাগিয়ে সপ্তর্ষিমন্ডলের প্রশ্নবোধক চিহ্ন খুঁজে বের করা– – আর সেখানেই আমার জীবনে প্রথম এবং সবচেয়ে সুন্দর ধূমকেতুটি দেখা। অনেক পরে যার নাম জেনেছি ‘হেল-বপ’ (Hale-Bopp) যা ১৯৯৭ সালের গোড়ার দিকে নিজের সবচেয়ে উজ্জ্বল অবস্থায় ছিল। 

এখনো মনে আছে, দিগন্তের কিছু উপরে ছোট্ট একটা আলোর ঝাড়ু–র মত তারা দেখে কতটা কৌতূহল জেগেছিল মনে। কিন্তু সেই কৌতূহল মিটতে অনেক সময় লেগেছে। ধূমকেতু আসলে কী, এর উৎপত্তি কোথায় আর কেন – এরকম প্রশ্নগুলোর উত্তর একটু একটু করে জেনেছি। ‘ধূমকেতু’ কথাটা শুনলে তোমাদের মনেও নিশ্চয়ই এরকম প্রশ্নগুলো আসে, তাই না? তাহলে ব্যাপারটা একটু খতিয়ে দেখা যাক!

‘ধূমকেতু’ – শব্দটার আক্ষরিক অর্থ করলে অর্থ দাঁড়ায় ‘ধোঁয়ার নিশান’। আবার এর ইংরেজি প্রতিশব্দ ‘Comet’ এসেছে গ্রীক শব্দ ‘Kometes’ থেকে যার বাংলা অর্থ বলা যায় ‘লম্বা চুলের তারা’। দু’টি নামেই পাওয়া যায় ধূমকেতুর ঔজ্জ্বল্য আর একটা ‘লেজের’ মত অংশের আভাস। আসলেও তাই। লেজের আকারের জন্য ধূমকেতু দেখতে শলার ঝাড়–, ধোঁয়ার পতাকা কিংবা লম্বা চুলের ঝুঁটি – নানারকমই মনে হতে পারে। কিন্তু কিছুটা শক্তিশালী দূরবীনে দেখে যদি আমরা এর গঠন বুঝতে চাই, তাহলে মোটামুটি তিনটি অংশই পাওয়া যাবে। সেগুলো হল – নিউক্লিয়াস বা কেন্দ্রকণা (Nucleus), এটিকে ঘিরে থাকা ধূমকেতুর সবচেয়ে উজ্জ্বল অংশ কোমা (Coma) আর একটি বেশ বড়োসড়ো লেজ (Tail)। এগুলোর মধ্যে কেন্দ্রকণাই এর মূল স্থায়ী অংশ। বাকি দুটো কিছু বিশেষ সময়েই তৈরী হয় আর কেবল তখনই আমরা এদের দেখতে পাই। কেন্দ্রকণার আকার বেশ ছোট (কয়েকশ’ মিটার থেকে ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত)। এর প্রায় অর্ধেক উপাদানই হল ধূলো, বালুকণা বা ছোট পাথরের টুকরো। আর বাকি উপাদান হল পানি, অ্যামোনিয়া আর মিথেনের বরফ। এছাড়া সামান্য পরিমানে গ্যাস বা উদ্বায়ী পদার্থ থাকতে পারে। তাই নিউক্লিয়াসকে বলা হয় ‘নোংরা বরফের গোলা’ বা ‘Dirty snow ball’।এই গোলাটি সৌরজগতের অন্যান্য গ্রহ-উপগ্রহের মত একটা নির্দিষ্ট পথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। এভাবে চলতে গিয়ে এটি সূর্যের মোটামুটি কাছে (প্রায় পৃথিবীর থেকে দূরত্বের তিন গুণ) চলে আসলে এর কোমা বোঝা যায়। কোমাটি মূলত ধূলোবালির তৈরি যা ধূমকেতুর গতির কারনে এর কেন্দ্রকণার আশেপাশে ছড়িয়ে পরে। আর লেজটা প্রায় ১০,০০,০০০কি.মি. থেকে তার ১০০ গুণ পর্যন্ত হতে পারে। ধূলোর তৈরি লেজের রঙ হয় হলদেটে আর আয়নিক কণার তৈরি হলে তার রঙ হয় অনেকটা নীলচে।  

লেজটা আসলে কেন হয়? ধূমকেতুতে যেহেতু প্রচুর বরফ থাকে, সূর্যের কাছাকাছি আসলে এগুলো গলতে শুরু করে। সূর্যের দিকে (বা বিপরীতে) ধূমকেতুর গতির কারনে এর গতির উল্টো দিকে এই গলে যাওয়া পদার্থকণাগুলো বিশাল এলাকা জুড়ে লেজের মত অংশ তৈরি করে। আর সূর্যের আলো এই পুরো অংশে প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে আসে বলেই আমরা এত অদ্ভুত সুন্দর আকারের মহাজাগতিক বস্তুটি দেখি।  ধূমকেতুটির সূর্যকে ঘিরে ঘুরবার পথটি কত বড় তার উপর নির্ভর করে এটি কতদিন পরপর পুরো পথটি ঘুরে আবার সূর্যের কাছে আসবে, অর্থাৎ আমরা দেখতে পাবো। তার উপর ভিত্তি করে ধূমকেতুকে মূলত দুই ভাগে ভাগ করা যায়। স্বল্পমেয়াদী- যেগুলো মোটামুটি ২০০ বছরের মধ্যেই ফিরে আসে; আর দীর্ঘমেয়াদী – যেগুলো ঘুরে আসতে কয়েকশ থেকে কয়েক হাজার বছর পর্যন্ত লাগে। 

আচ্ছা! ধূমকেতু কি, কেমন বা কতরকম তা নাহয় বুঝলাম, কিন্তু কোথা থেকে আসে এগুলো? দুটি বিশাল এলাকায় মূলত এদের অবস্থান। কুইপার বেল্ট আর ঊর্ট মেঘ।সৌরজগতের সীমানা অর্থাৎ নেপচুনের পর থেকে প্রায় সূর্য থেকে নেপচুনের সমান দূরত্বের ব্যাসের এলাকা জুড়ে অসংখ্য বরফময় গ্রহাণুর মত ছোট ছোট বন্তু ঘুরে বেড়াচ্ছে। এ অঞ্চলকে আবিষ্কারকের নামানুসারে বলা হয় কুইপার বেল্ট। এই সীমানার বাইরে আরও অনেক অনেক দূরে(সৌরজগতের সীমানার প্রায় হাজারগুণ) সম্পূর্ণ সৌরজগতকে ঘিরে এমনই বরফময় খন্ড ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে মেঘের গোলকের মত। এর নাম ঊর্ট মেঘ। এই দুই অঞ্চলের বস্তুগুলোই মূলত ধূমকেতুর নিউক্লিয়াস। বিভিন্ন কারনে এদের উপর কার্যকর মহাকর্ষীয় ক্ষেত্রের তারতম্যের কারণে এগুলো থেকে দু’একটি করে হঠাত হঠাত সূর্যের মাধ্যাকর্ষণের আওতায় পরে যায় আর এগিয়ে আসতে থাকে সৌরজগতের দিকে। সৌরজগতের সীমানায় বৃহস্পতি বা শনির মাধ্যাকর্ষণের প্রভাবে এগুলোর গতিপথ আরও ছোট হয়ে যায়। এগুলো স্বল্পমেয়াদী। আর বাকি ধূমকেতুগুলো রয়ে যায় দীর্ঘমেয়াদী-ই। এই সবরকম কেন্দ্রকণাই চলতে চলতে সূর্যের কাছে এসে প্রথমে গলে-ছড়িয়ে সৃষ্টি করে কোমা যার একটা অংশ তৈরি করে লেজ। আর সূর্যের আলোর প্রতিফলনে এই নোংরা বরফের গোলাই দৃষ্টিনন্দন ধূমকেতু হয়ে আমাদের মুগ্ধ করে, ভাবায়, কৌতূহলী করে তোলে।

গড়ে প্রতি বছর ছয়টির বেশি ধূমকেতু নতুন আবিষ্কৃত হয়। কিন্তু খালিচোখে দেখার মত বড় আর নিকটবর্তী ধূমকেতু আছে কমই। এরকম কয়েকটি বিখ্যাত ধূমকেতু হলঃ হ্যালির ধূমকেতু, হেল-বপ, কোহুতেক, শ্যুমেকার, আইসন, লাভজয়, হায়াকুতাকে ইত্যাদি। 

অনেক তো জানা হল। এখন রাতের আকাশে কখনো ঝাড়ুর মত কিছু দেখলে ভড়কে না গিয়ে বরং এটির গলে যাওয়া বরফের গঠন আর দূর-দূরান্ত পাড়ি দিয়ে আসার গল্প শুনিয়ে সবাইকে চমকে দিতে পারবে না? আশা করছি, অবশ্যই পারবে!   

দ্রষ্টব্যঃ লেখাটা ২০১৪ সালের। চন্দ্রাবতী একাডেমীর শিশু সংকলনের জন্য লিখছিলাম খুব সম্ভবত, মনে নেই। যেহেতু এই ওয়েবসাইট করার একটা মূল উদ্দেশ্য হল আমার টুকটাক লেখালেখিগুলো এক জায়গায় রাখা, সাথে অভ্যাসটাও বাঁচানোর চেষ্টা – তাই প্রথমেই আগের কিছু লেখা পোস্ট করে রাখছি।

Translate »