Categories
Reviews

The Kite Runner – Khaled Hosseini

September 2019

A story that touches some of the deepest heartstrings. The main protagonist is Amir, who is also the narrator. From his childhood at the rich neighborhood of Kabul, Afghanistan, his story takes all sort of twists towards his adulthood. At one side, this is a story of facing his inner demons and how it shaped his relationship with his best friend, and his own struggle towards redemption. On the other side, this is story gives a vivid picture of how Afghanistan used to be and how it changed during communist period followed by the period under taliban rules. How the Afghan refugees moved to other countries and how they kept their cultural spirit, be it positive or negative, in foreign lands. How Amir kept paying the price for his mistake because he could not forgive himself.

The story itself is amazing, but the storytelling is even better. Simple words that cut deep, and make the people and places come alive while reading. Felt like I know these people all my life. As a result, my emotions moved up and down with the story, it made me wistful, mellow, sad, nostalgic, happy – and more. It broke my heart and patched it up again somehow, only to go over the circle again and again.

At the end, it made me grateful to have people to whom I can say , “For you a thousand times over”, and knowing that they will do the same. A must read for any book lover!

Categories
Reviews

অভাজনের মহাভারত – মাহবুব লীলেন

২৪ আগস্ট, ২০১৯

মহাভারত পড়েছি বেশ ছোটবেলায় উপেন্দ্রকিশোরের সংস্করণ, তার বেশিরভাগই মনে নেই। এর পরে একটা সম্পূর্ণ সংস্করণ পড়ার ইচ্ছে থাকলেও নানান কারণে – অকারণে হয়ে ওঠেনি। তবে টুকরো টুকরো বিবরণ বা গল্প শোনা বা পড়া হয়েছে অনেকবারই। এই বইটার নাম শুনি আমি মাত্র ১০দিন আগে। বেশ প্রশংসা শুনেই আগ্রহ করে শুরু করি, আর বইয়ের ভাষার কারণে প্রথমে বেশ হোঁচট খাই। তবে শুরুতেই নানান তথ্য আর সরাসরি ভণিতা ছাড়া দেয়া ব্যাখ্যাগুলো পড়ে ডুবে যাই বইতে বলা যায়।

কাজ আর জীবনের কারণে এখন আর আগের মতো এক বসায় টানা বই পড়ে যাওয়া সম্ভব হয় না। সেই দিক থেকে দেখলে অনেকদিন পর এতো কম সময়ে এমন ঘটনা আর তথ্যবহুল একটা বই শেষ করলাম। সেজন্য সমস্ত কৃতিত্ব লেখনীর। বাস্তবতা আর পৌরাণিক ছোট বড় অসংখ্য ঘটনা, কাহিনী, আর কালের স্রোতে নানান জনের স্বার্থে জমতে জমতে বিশাল থেকে বিশালতর হয়ে যাওয়া এই মহা-কাহিনীকে এরচেয়ে সোজাসাপ্টা কথায় এতো গুছিয়ে লেখা মনে হয় সম্ভব না। বিশেষ করে কবে আর কীভাবে কাহিনীগুলো বা তার অংশবিশেষ বদলেছে, বিভিন্ন প্রধান চরিত্র বিশ্লেষণ, আর এ ব্যাপারে আরও জানতে চাইলে উপযুক্ত তথ্যের রেফারেন্সের ব্যাপারগুলো খুবই ভালো লেগেছে। অবশ্যই পড়ে ফেলার মতো বই, এবং পড়ার আগে অবশ্যই ভূমিকাটুকু পড়ে নিতে হবে, নাহলে এই লেখনীর মর্মই বেশিরভাগ বোঝা যাবে না।

Categories
Reviews

We Should All Be Feminists, Chimamanda Ngozi Adichie

2018

A must read for everyone I have to say. A very small booklet, basically a written and modified version of a speech. But every single line, every single word is so powerful! Sad but true how strongly I could relate to every single point. Being from a society that teaches women to aspire after marriage and approval of men, where being competent and smart is considered as being intimidating, not being married even at 27 diminishing all of my accomplishments in eyes of people, my parents who used to be proud of my achievements now sometimes worrying about where I am going with my life even though I think I am doing much better than even I expected of myself sometimes.

My request to anyone who is reading this would be to read this short book of ~15 pages, and think about it. Just because we do not acknowledge something does not mean that it does not exist. Let’s stop comparing ourselves to apes and male-dominating animal kingdom, and start a step towards being human beings that look for quality and competence for betterment, and not for difference of hormonal levels and reproducing organs as a measurement of quality. 🙂

“Gender matters everywhere in the world. And I would like today to ask that we begin to dream about and plan for a different world. A fairer world. A world of happier men and happier women who are truer to themselves. And this is how to start: We must raise our daughters differently. We must also raise our sons differently.”
….
“My own definition is, a feminist is a man or a woman who says, yes, there’s a problem with gender as it is today and we must fix it, we must do better. All of us, women and men, must do better.”

Categories
Reviews

ঠাকুরবাড়ির আঙিনায়, জসীমউদ্দীন

2016

একেবারেই একটানা পড়ে শেষ করলাম বইটা। ছোটবেলা থেকেই কবি জসীমউদদীনের মুগ্ধ পাঠক ছিলাম, এখন তাঁর গদ্যরও ভক্ত হয়ে গেলাম। যদিও এটিকে গদ্য না বলে স্মৃতিকথা বলাই যুক্তিযুক্ত। কবিগুরু এবং ঠাকুরবাড়ির আরও বেশ কিছু মানুষ, বিশেষ করে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সান্নিধ্যে আসা এবং তাঁদের সাথে কাটানো সময়ের স্মৃতিচারণ নিয়েই লেখা বইটি। 

বইটি পড়তে পড়তে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবন, কাজ, ও ব্যক্তিত্বকে এক নতুন আলোকে দেখতে পেলাম যেন; যেই কবি লেখা মনমতো হওয়ার আগে পর্যন্ত বারে বারে লেখার সংশোধন ও পরিবর্তন করেন, নাটক মঞ্চায়নের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত সংলাপ আর কাহিনীতে পরিবর্তন করতে থাকেন সবচেয়ে ভালোভাবে কাজটি করার জন্য, ভোরে উঠে সারাদিন লেখায় মশগুল থাকেন, আবার তাঁর কাছে এসে কোনো দর্শনার্থী ফিরে গেলে মনঃক্ষুণ্ণ হন, সকলের সাথে দেখা এবং কথা বলেন, সাধ্যমত সকলের জন্য করেন, আবার কেউ উপকার পেয়ে কৃতজ্ঞতা জানাতে এলে অবাক হয়ে যান। সাহিত্যের এতো দিকে তাঁর বিস্তর পদচারনা, অথচ বিশ্বভারতী আর শান্তিনিকেতনের মত বড় দুটো প্রতিষ্ঠান চালিয়ে গিয়েছেন সফলভাবে। বই থেকে জানলাম এতোরকম কাজ করতে গিয়ে ঠাকুরবাড়ির বাকি সকলের এবং আরও কতজনের কতো নীরব ত্যাগ এবং অবদান ইন্ধন জুগিয়েছে। জানলাম অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এবং তাঁর আরও দুই ভাইয়ের সাধনার কথা; ছবি আঁকা নিয়ে তাঁদের দিন রাত পার করে দেয়ার গল্প। 

পড়ার সময় গুণী মানুষজনের কথা, কাজ, এবং কাজের প্রতি অবিচল নিষ্ঠা দেখে শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়েছে, মানুষের সাথে মানুষের সৌহার্দ্য আর বাচ্চাদের মন জয়ের জন্য লেখকের চেষ্টার কথা শুনে অদ্ভুত প্রশান্তি হয়েছে, বন্ধুরা মিলে প্রতিবেশি একজনের সাথে প্র্যাক্টিক্যাল জোকের কাহিনী পড়তে গিয়ে নিজের অজান্তেই জোরে হেসে ফেলেছি, আবার জীবনের শেষ দিকে এসে এই বাড়ির মানুষজনের দুর্দশার কথা পড়তে গিয়ে চোখ ভিজে এসেছে। 

পল্লীকবি জসীম উদদীনের লেখায় গ্রামবাংলার যে মায়াভরা রূপটা দেখতে পাই, তাঁর লেখায় যে মাটির গন্ধ পাই, সেইরকম মায়া এই বইটা জুড়েও ছিলো। একটা শহর আর শহুরে মানুষজন নিয়েও যে এমন কোমল মমতা নিয়ে লেখা যায়, এমনটা আগে দেখিনি। মিষ্টি সব উপমা, সহজ সরল মুগ্ধতার ভাষা, আর লেখাজুড়ে আপনজনকে নিয়ে লেখার মায়া যে মনের ভেতর থেকে আসা ভালোবাসা আর শ্রদ্ধা মিলেই গড়ে উঠেছে – তাতে সন্দেহ হবার অবকাশ নেই। লেখকের এ ধরনের আরও যে কয়টি বই রয়েছে, যত দ্রুত সম্ভব পড়ে ফেলার আশা রাখি 😀

Categories
Reviews

যদ্যপি আমার গুরু, আহমদ ছফা

২০১৬

অনেকদিন থেকে ‘পড়তে চাই’ লিস্টে রেখে দেয়া একটা বই। শুরুটা বেশ কয়েকদিন আগে করেছি। তবে প্রথমে একটু একটু হোঁচট খেয়েছি বলতে হবে। কেমন যেন একটু খাপছাড়া আর এক কথা কয়েকবার এসেছে মনে হয়েছিলো। তবে কয়েক পাতা পড়ার পর থেকে আর থামতে হয়নি, পারিনি বলা ভালো।

বইটা পড়তে গিয়ে যতটা না গুনমুগ্ধ হয়েছি তারচেয়ে অনেক বেশি আফসোস হয়েছে। আহা, এমন একজন মানুষের কাছে দাঁড়িয়ে তাঁর এতো এতো অভিজ্ঞতা আর দর্শনের কথা যদি কিছুক্ষণের জন্যও শুনতে পেতাম, লেখক যদি আরেকটু গুছিয়ে আরও বিশদভাবে অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাকের সাথে তার কথোপকথন লিখে রাখতেন যখন শুনতেন, ইনি ছাড়া আরও কারো দৃষ্টিভঙ্গি থেকে যদি জানতে পারতাম এই অসাধারণ জ্ঞানী এবং গুণী মানুষটার কথা! – এবং আরও অনেক আফসোস। বইতে একটা জায়গায় আছে, একদিন বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার সমর সেন স্যারের বাসায় আসবেন এই উপলক্ষে তাঁর বাসায় নানান আয়োজন হয়। সেসময় লেখককে তিনি ভারতীয় উপমহাদেশ এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রান্নাবান্নার ধরণ এবং তার কারণ সম্পর্কে অনেক কিছু বলেন; কিন্তু লেখকের নিজের রান্নাবান্না সম্পর্কে তেমন অভিজ্ঞতা বা আগ্রহ কোনোটাই না থাকায় তিনি তার প্রায় সবটাই ভুলে গিয়েছেন। পুরো বইটাতে এই অংশে আরও কি কি লেখা থাকতে পারতো ভেবে যে আফসোস হয়েছে, এরকম আর হয়নি বলা যায়। এরকম অমূল্য কথাগুলো এভাবে হারিয়ে গেলো!

লেখক নিজেই বলেছেন যে, অধ্যাপকের কথা বা তাঁর চরিত্রকে একেবারে সম্পূর্ণরূপে তুলে ধরা হয়তো সম্ভব হয়নি স্মৃতি থেকে লেখার কারণে। তারপরেও, বিভিন্ন ঘটনা আর বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর মন্তব্য যা পড়েছি এখানে, এতেই তাঁর জ্ঞানের পরিধি, প্রজ্ঞা, আর চারিত্রিক গুণের কথা ভেবে শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়ে আসে। অথচ তেমন কিছুই জানতাম না এঁর ব্যাপারে বইটা পড়ার আগে! বইটা পড়তে গিয়ে তাঁদের কথাবার্তায় উঠে আসা নামগুলো থেকে অনেকগুলো বই আর লেখকের নাম টুকে রেখেছি, সম্ভব হলে অবশ্যই পড়ে দেখতে চাই এমন সব বই।

কোথায় যেন পড়েছিলাম যে, একজন জ্ঞানী ব্যক্তির কাছে এক ঘণ্টা বসে থেকে তাঁর কথা শোনা একশ’ বই পড়ার চেয়ে বেশি জানায় ও ভাবায়। বস্তুতই এমন মানুষের দেখা পাওয়া ভার। কোনো এক বিষয়ে অনেক জানেন এমন মানুষ থাকলেও বিবিধ বিষয়ে পারদর্শী মানুষ যেমন পাওয়া কঠিন, তেমনি অনেক জানেন কিন্তু শ্রদ্ধা করার মত চরিত্রর দেখা পাওয়া আরও কঠিন। অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাকের কথা থেকে নিয়ে বলা যায়, ” বড় লেখকদের মধ্যে বড় মানুষের ছায়া থাকে। বড় মানুষেরা আসলেই বড় মাপের মানুষ।” সেদিন থেকে তাঁর মানুষের গুণের যথার্থ কদর, যার প্রয়োজন তাকে যথার্থ সাহায্য করা, সর্বোপরি উপকার পেয়ে পরে ভুলে যাওয়া মানুষের প্রতি কোনো তিক্ত মনোভাব পুষে না রাখার যে দৃষ্টান্ত দেখেছি তাতে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা আরও বেড়ে যায়।

বইয়ের শুরুতে একটু আটকে গেলেও পরে যে আর থামতে পারিনি, তা যেমন লেখনীর গুণ, তেমনি বিষয়ের। এতো ছোট পরিসরের একটা বইতে কত বিষয় আর কত মানুষ সম্পর্কে যে কতো কিছু জানতে পারলাম তা ভেবে কূল পাচ্ছি না আপাতত। লেখকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে শেষ করছি যার জন্য কিছুটা হলেও এমন একজন ব্যক্তিত্বের কথা জানতে পারলাম।

Categories
Reviews

ভোল্‌গা থেকে গঙ্গা, রাহুল সংকৃত্যায়ন

August, 2016

অনেকদিন সময় নিয়ে পড়লাম বইটা। যেকোনো বয়সের পাঠকদের জন্য অবশ্যপাঠ্য মনে হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ-ভারত এলাকার মানুষজনের জন্য। ৬০০০ খ্রিষ্টপূর্ব থেকে বর্তমান সময়ে এই উপমহাদেশের আশেপাশের এলাকায় সভ্যতা আর সমাজ কীভাবে এগিয়েছে সেটাই একটার পর একটা সময়ের মানুষের গল্প দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সাধারণ মানুষ বা সমাজপতিদের ব্যক্তিগত জীবন আর দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যেই ফুটে উঠেছে ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দেয়া ঘটনাপ্রবাহ আর দর্শন। কীভাবে মানুষ শুধুমাত্র ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করতে মানুষের অনুভূতি বা ধর্মবিশ্বাসকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ব্যবহার করেছে তারও একটা পরিষ্কার ছবি চোখে ভাসে। স্কুলে থাকলে সমাজবিজ্ঞান বইতে ইতিহাসের যে অংশগুলো ছিলো তার বদলে ষষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত এই বইয়ের অংশবিশেষ করে পড়লে ইতিহাস আরও অনেক সুন্দরভাবে জানতে আর বুঝতে পারতাম মনে হয়েছে। 

বইটায় দুইটা অংশ আছে। ‘ভোল্গা থেকে গঙ্গা’ আর ‘কনৈলা কি কথা’। প্রথম অংশে সমগ্র ইন্দো-ইউরোপীয় এলাকা নিয়েই কথা এসেছে আর দ্বিতীয় অংশে কনৈলা বা কর্ণহট আর শিশংপা নামক জায়গার আশেপাশের এলাকার ইতিহাস। লেখা খুবই সুখপাঠ্য। তবে প্রথমদিকে পড়তে গিয়ে আটকাতে হয়েছে। এই জন্যেই পড়তে সময় নিয়েছি। তবে সেটা লেখার সীমাবদ্ধতা নাকি অনুবাদের, সেটা নিয়ে প্রশ্ন আসে। অনুবাদ বেশীরভাগ জায়গাতেই সাবলীল ও ঝরঝরে। তবে কিছু কিছু জায়গায় কেমন ‘আক্ষরিক’ অনুবাদ হয়েছে বলে মনে হয়। সেটা পাঠক হিসেবে আমার সীমাবদ্ধতাও হতে পারে। 

তারপরেও সব মিলিয়ে আসাধারণ বই এটি। সময় নিয়ে হলেও সবার পড়ে দেখা উচিৎ। এতো বিশাল পরিসরের এতো রকম ঘটনা সবটা মনে না থাকলেও সবমিলিয়ে এই উপমহাদেশের যে ছবিটা চোখের সামনে ফুটে উঠেছে বইটা পড়ে, আর কোনো বই পড়েই এমন হয়নি 🙂 

Categories
Reviews

The Things You Can See Only When You Slow Down, Haemin Sunim

June, 2017

Heart warming, soothing, simple, yet full of wisdom. Started reading it at a difficult time and this book helped me find myself back again. I wouldn’t say it is filled with extraordinary enlightenment, but that is the best part about it. There are some simple yet powerful truth which we all know deep down inside, but it is so easy to lose our connection with those when we are too wound up in our busy life. This book was a kind a gentle reminder to those truths for me. A small book, but I took my time reading and thinking about the lines. Will definitely read again and again. And also will recommend to anyone who is distressed with anything in their life right now. This book is a gem indeed 🙂 !

Categories
Reviews

আগুনপাখি, হাসান আজিজুল হক

মার্চ, ২০১৬

অনেক অনেকদিন পর মোটামুটি এক নিঃশ্বাসে একটা বই পরে ফেললাম। ছোটবেলায় গ্রামে যখন ছিলাম, সন্ধ্যে হলেই কিছুক্ষণ নামেমাত্র পড়াশোনা করে দাদুর কাছে বসে যেতাম আমরা দুই ভাইবোন। বেশিরভাগ সময়েই লোডশেডিং চলতো আর উঠোনে খোলা আকাশের নিচে বসে হাতপাখার বাতাস খেতে খেতে আমরা শুনতাম দাদুর জীবনের গল্প- কিভাবে বরিশালের মশাং নামক এলাকার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়ে মাত্র দশ বছর বয়েসে বিয়ে করে এই সংসারে এলো- কিভাবে অনেক দিন পর্যন্তই এই বড় বাড়িতে মন খারাপ করেই তার সময় কেটে যেত- কিভাবে সে কোনও কাজ না জেনে এলেও সময়ের সাথে সব শিখে সংসারের হাল ধরলেন – কিভাবে সংসারের ভালো মন্দ সময়গুলো গেলো- কখন একেকটা অসময়ের মৃত্যু এসে জীবনটা ওলট পালট করে দিলো- কিভাবে তারপরেও জীবন এগিয়ে গেলো- কিভাবে মুক্তিযুদ্ধের সময়টা তারা পার করলেন- এমন হাজারও জীবনের গল্প শুনতে শুনতে ছোটবেলায় কোথায় যে হারিয়ে যেতাম! একটু বড় হবার পর থেকেই তাই মাথায় ঘুরছে যে তার এই সব গল্প- সবকিছু যেভাবেই হোক লিখে ফেলতে হবে। পৃথিবীতে কত কি হয়ে যায়- তার প্রভাব একেবারেই কারও সাতে-পাঁচে না থাকা নিরীহ মানুষের জীবনে কিভাবে আন্দোলন বয়ে আনে, তা সত্যিই স্তব্ধ করে দেয় সময়ে সময়ে। আগুনপাখি বইটি পড়ে মনে হচ্ছিলো আমার দাদুর গল্পই যেন পড়ছি!

গাঁয়ের এক সাধারণ মেয়ের জবানিতে লেখা তার জীবনের বিভিন্ন সময়ের গল্প। তার বাবার বাড়ি ছেড়ে শ্বশুরবাড়ি চলে আসার গল্প। বিরাট সংসারে ছায়া দিয়ে যাওয়া মানুষদের কথা মেনে নিয়ে যা আছে তাই নিয়ে হাসিমুখে পার করে দেয়া সময়ের গল্প। এর মাঝেই জন্ম- মৃত্যু – হাসি – কান্না মিলে জীবন এগিয়ে যায়। পুরো বইটা জুড়ে ছড়িয়ে ছিল মাটির গন্ধ আর একমাত্র মায়ের মনেই থাকা সম্ভব এমন মায়া। কোনও কিছুই মুখফুটে না বললেও যে মানুষ তার পরিবারের মানুষগুলোর সংসার টিকিয়ে রাখার সংগ্রাম অকপটে বুঝে নিয়ে নিজের সর্বস্ব দিয়ে যাচ্ছে তাকে ভালো না বেসে কি পারা যায়! তাই বইটি পড়তে গিয়ে নিজের অজান্তেই কখনো হেসে কুটিকুটি হয়েছি, কখনো বুক ভেঙ্গে যেতে চেয়েছে হাহাকারে। বিশ্বযুদ্ধ, ভারত ছাড় আন্দোলন, দেশ বিভাগ, মঙ্গা- এসবকিছুকেই একেবারে আটপৌরে জীবনের কাছ থেকে দেখতে পেলাম যেন। আর শেষে এসে এই সর্বংসহা সরল মেয়ের জীবনে একবার অবাধ্য হবার সময়ও তাই তাকে সমর্থন না জানিয়ে পারলাম না। অসাধারণ বই!